ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় নতুন করে চালানো ইসরায়েলি সামরিক হামলায় কমপক্ষে আটজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি বহাল থাকার মধ্যেই এই সাম্প্রতিক বিমান ও স্থল হামলার ঘটনা ঘটল, যা ওই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আবারও চরম উত্তপ্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারীদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের একটি পুলিশ চৌকির নিকটবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারান। এর কিছু সময় পর একই শহরের একটি অস্থায়ী শরণার্থী তাঁবু লক্ষ্য করে চালানো অন্য একটি হামলায় আরও একজন নিহত হন। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে ওঠা এক সশস্ত্র যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে খান ইউনিসে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
একই দিনে মধ্য গাজার দিয়ের আল-বালাহ শহরে একটি গণরান্নাঘরের কাছাকাছি এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হলে তিনজন ফিলিস্তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এই হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, হামাসের একটি ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ইউনিটের শীর্ষ কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছিল।
এর বাইরে পৃথক সহিংসতায় আরও তিনজন ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন খান ইউনিস এলাকায় সরাসরি গুলিবর্ষণে নিহত হন এবং বাকি দুজন দিয়ের আল-বালাহ শহরের একটি বেকারির পাশে বিমান হামলায় প্রাণ হারান।
এর ঠিক আগের দিন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গাজা সিটিতে একটি সুনির্দিষ্ট ও বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে তারা হামাসের সশস্ত্র উইংয়ের প্রভাবশালী প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে অবান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। হামাস নেতৃত্ব তাদের এই শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করলেও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বা হুমকির কথা জানায়নি।