নিহতদের মধ্যে সজিব ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জুলিয়ার বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং কোনাবাড়ীর বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকায় বসবাস করে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে, রনি মিয়া একই উপজেলার হাড়োয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই এলাকায় থেকে আশুলিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়ন করছিলেন।
আশেপাশের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই স্থানীয় বাইমাইল কাদের মার্কেট সংলগ্ন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সজিব ও রনি অতিরিক্ত মদ্যপান করেন। এর পরদিন ভোর থেকে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে প্রথমে তারা স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক ওষুধ গ্রহণ করেন। তবে অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে তাদের কোনাবাড়ীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সজিব এবং বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রনি মিয়ার মৃত্যু হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সজিবের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছে এবং পরবর্তীতে রনি মিয়ার মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিষাক্ত মদপানের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।