রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকলেও অপকর্মে জড়ালে ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশে সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় থাকলেও যদি কেউ অপরাধমূলক কাজ কিংবা গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকলেও অপকর্মে জড়ালে ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশে সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় থাকলেও যদি কেউ অপরাধমূলক কাজ কিংবা গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, অন্যায়কারী ব্যক্তি যে পেশারই হোক না কেন, আইন সবার জন্য সমান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের পরিচালনায় রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনের বৈঠক শুরু হয়। অধিবেশনে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

এর আগে অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিগত ১৭ বছরে সংবাদমাধ্যমের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি এবং গত ১৭ বছরের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অনেক সৎ সাংবাদিক অত্যন্ত সততার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। তবে তার প্রশ্ন ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসকল তথাকথিত সাংবাদিক গুম, হত্যাকাণ্ড, নির্বাচনে জালিয়াতি, আর্থিক কেলেঙ্কারি ও গণনিধনের মতো ঘটনাগুলোকে বৈধতা দিতে জনমত গঠনের চেষ্টা করেছে, তাদের ব্যাপারে বর্তমান প্রশাসন কী ভাবছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকারের সুবিধাভোগী সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যমগুলোকে বর্তমান সময়ে পুনরায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে। অথচ আজকে যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছেন, বিশেষ করে বিএনপির শীর্ষ নেতা তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে এই গোষ্ঠীটিই অতীতে রাষ্ট্রদ্রোহী ও চক্রান্তকারী হিসেবে প্রচার করেছিল। বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়াসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের হত্যার সপক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই বিতর্কিত সাংবাদিকদের এখন বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সপক্ষের সাংবাদিকদের টেলিভিশন চ্যানেল থেকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনার বিবরণ দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, সময় টিভি দখল করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে মাইকিং করে ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছে, সেই ঘটনাটিকে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু টকশো আলোচককে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এই ধরনের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কিনা বা কী করতে যাচ্ছে, তা তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু দেশের বিদ্যমান আইন অমান্য করে যারা গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে চায় কিংবা সহিংসতাকে উসকে দেয়, তারা কোনোভাবেই পার পাবে না।

অপরাধীদের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী শুধুই অপরাধী, সে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী কিংবা চাকরিজীবী যা-ই হোক না কেন। কেউ যদি আইনের পরিপন্থী কোনো কাজ করে, তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই সরকার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।