শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গরিব, কৃষক, তরুণ—সবাইকে ঘিরে ৯ দফা পরিকল্পনায় বিএনপির ইশতেহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গরিব, কৃষক, তরুণ—সবাইকে ঘিরে ৯ দফা পরিকল্পনায় বিএনপির ইশতেহার
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী অঙ্গীকার নয়; বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি নতুন সামাজিক ও নৈতিক চুক্তির রূপরেখা।

ইশতেহারে ঘোষিত বিএনপির ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি

১. ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে।

২. কৃষক ও কৃষিভিত্তিক খাতে সহায়তা
‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ফসল বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। এই সুবিধা পাবেন মৎস্যচাষী, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষিখাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।

৩. স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগ
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

৪. কর্মমুখী ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা
বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৫. তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সহায়তা
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

৬. ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে খেলাধুলাকে পেশা ও জীবিকার উৎসে পরিণত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

৭. পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা
স্বেচ্ছাশ্রম ও জনগণের অংশগ্রহণে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার
সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ
আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, দলটি “প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে” বিশ্বাস করে। ক্ষমতার চেয়ে জনগণের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করে তারা জানায়, রাষ্ট্র পরিচালিত হবে উৎপাদন, ন্যায্যতা ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে।

দলটি আরও দাবি করে, জনগণের রায়ে ক্ষমতায় গেলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়া হবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা নিশ্চিত হবে, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না।