মার্কিন মধ্যস্থতায় চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজা সিটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদকে হত্যা করেছে ইসরাইল। হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থা (আইএসএ)।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে চালানো ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার জরুরি সেবা বিভাগ। পরে ইসরাইলি বাহিনী দাবি করে, এটি ছিল একটি ‘সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত হামলা’ যার লক্ষ্য ছিল আল-হাদাদ।
শনিবার (১৬ মে) উত্তর গাজার একাধিক মসজিদ থেকে তার মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয় বলে জানিয়েছে Reuters। তবে হামাস এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইসরাইলের অভিযোগ অনুযায়ী, আল-হাদাদ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নজিরবিহীন হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে জিম্মি রাখার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি, হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজাকে সামরিকভাবে মুক্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার জন্যও তাকে দায়ী করেছে ইসরাইল।
গাজার জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, প্রথম হামলাটি চালানো হয় গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকার একটি আবাসিক ভবনে। এরপর কাছাকাছি একটি রাস্তায় থাকা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বিমান হামলা চালানো হয়।
গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া CNN-কে জানান, নিহতদের মধ্যে তিন নারী ও একটি শিশুসহ সাতজনের মরদেহ তারা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ জন আহতকে উদ্ধার করে আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জ আল-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান ছিলেন আল-হাদাদ। গোপনীয় চলাফেরা ও রহস্যময় স্বভাবের কারণে সংগঠনের ভেতরে তিনি ‘আল-কাসামের ভূত’ নামে পরিচিত ছিলেন।
ইসরাইলি অভিযানগুলোতে হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর আল-হাদাদকেই সংগঠনের সবচেয়ে প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে এই অভিযানটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলা চালানো হলো। যদিও ইসরাইল প্রায় নিয়মিতই গাজায় অভিযান চালিয়ে আসছে এবং দাবি করে যে এসব হামলার লক্ষ্য হামাস অথবা তাদের বাহিনীর ওপর আসন্ন হুমকি প্রতিরোধ করা।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর আগের দিনই যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণকারী কর্মকর্তা নিকোলে ম্লাদেনভ স্বীকার করেন, চুক্তিটি ‘ত্রুটিমুক্ত নয়’, তবে এটি অঞ্চলে একটি ‘আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা’ এনেছে।
জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া সমন্বয়কারী ম্লাদেনভ আরও বলেন, হামাসকে গাজার শাসনক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হতে হবে—যার ওপরই ইসরাইলি সেনাদের পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ভর করছে।
সূত্র: CNN