হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান পদের আসন দাবি করাকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অনুসারীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সহিংসতায় স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ৫০ জন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নের কালাইনজুড়া গ্রামে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে মূল পদের চেয়ারে কে বসবেন, তা নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ফরিদ উদ্দিনের সাথে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী কপিল উদ্দিনের বিরোধ তৈরি হয়। এই আধিপত্য বিস্তারের জেরে একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন একটি মামলার কারণে কিছুদিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কপিল উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে পরিষদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সম্প্রতি ফরিদ উদ্দিন জামিনে মুক্তি পেয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে পুনরায় নিজের আসনে বসার উদ্যোগ নেন। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিন পদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে কালক্ষেপণ ও অনীহা প্রকাশ করায় দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সোমবার সকালে এই আসন নিয়ে দুই জনপ্রতিনিধির মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরবর্তীতে তা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
সংঘাতের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার হামলায় ওসিসহ চারজন পুলিশ সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত দুই চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নাজমুল হক জানান, পরিষদের চেয়ারে বসা নিয়ে সৃষ্ট কোন্দল থেকেই এই বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কালাইনজুড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।