একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার খবরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা জারির পর সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আটটি বিমানবন্দরে জারি করা হয়েছে উচ্চমাত্রার সতর্কতা।
বিমানবন্দরগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা বলয়
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আরও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, বিমানবন্দরগুলো আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে কঠোর নজরদারিতে থাকে, তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), এপিবিএন এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
হামলার ছক ও লক্ষ্যবস্তু
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (গোপনীয়) কামরুল আহসানের সই করা চিঠিতে জানানো হয়েছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি নাশকতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ব্যবহারের চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো হলো:
জাতীয় সংসদ ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও তাদের দপ্তর।
বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগার।
শাহবাগ ম্যুরাল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং বিনোদন কেন্দ্র।
চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বোমা হামলার পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে অতর্কিত হামলা চালানো হতে পারে।
নেপথ্যে যারা: বহিষ্কৃত সেনা সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা
তদন্তে এক ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া উগ্রবাদী সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্করের সাথে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া অন্য একটি সংস্থা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে আটজন কর্মকর্তা রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পাকিস্তানের উগ্রবাদী সংগঠন ‘তেহেরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-এর যোগসাজশ থাকার তথ্য মিলেছে। এমনকি দুইজনকে পাকিস্তান পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে অফলোড করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রস্তুতি ও নজরদারি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মুনশী শাহাবুদ্দীন জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যে কোনো নাশকতা রুখতে তারা কাজ করছেন। প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং মেট্রোপলিটন কমিশনারদের বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে যাতে সন্দেহভাজনদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।