লাতিন আমেরিকায় মাদক চোরাচালান দমনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চালানো হামলায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার এই অভিযানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও ধ্বংস হওয়া জলযানটিতে আসলেই কোনো মাদকদ্রব্য ছিল কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের তথ্যমতে, গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে চোরাকারবারিদের নিয়মিত রুট হিসেবে পরিচিত এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পানিতে ভাসমান ছোট আকৃতির একটি নৌযানকে তীব্র বিস্ফোরণে ধ্বংস হতে দেখা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই ধরনের অভিযান শুরু করার পর এ পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় সর্বমোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৪০ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
লাতিন আমেরিকার মাদক ব্যবসায়ী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র লড়াই চলছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাণঘাতী মাদকের বিস্তার রোধ ও এর প্রভাবে মৃত্যুহার কমানোর যুক্তিতে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপকে অত্যাবশ্যক বলে মনে করছে তার প্রশাসন। তবে সমালোচকরা সন্দেহভাজনদের মাদক সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে হত্যার যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মাত্রাতিরিক্ত মাদক গ্রহণের মূল কারণ ফেন্টানিল মূলত চীন ও ভারত থেকে আনা রাসায়নিক ব্যবহার করে মেক্সিকোতে প্রস্তুত হয় এবং তা সমুদ্রপথের বদলে স্থলপথেই বেশি পাচার হয়ে থাকে।
এই ধরনের প্রাণঘাতী অভিযানের বিষয়ে ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মে মাসে পেন্টাগনের একটি পরিদর্শক দল জানিয়েছিল, এই হামলাগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর সঠিক নিয়মকানুন, কমান্ডারের নির্দেশনা ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে এই পর্যালোচনার আওতায় হামলার আইনি বৈধতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকছে না।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সেপ্টেম্বরে এ ধরনের সামরিক কার্যক্রমে আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন মঙ্গলবারের ঘটনাটি তারই ধারাবাহিকতা। গত মাসে পেরু সফরে গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, আমেরিকা একাই এমন অভিযান চালাতে সক্ষম হলেও মিত্র দেশগুলোর সাথে মিলে কাজ করাটাই সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজ উদ্যোগেই যেকোনো নৌযানে হামলা চালাতে পিছপা হবে না বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।
সূত্র : এপি