মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ই-সিগারেট পুনরায় নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়নের আহ্বান

‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’-এ ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং নিকোটিন পাউচের মতো উদীয়মান তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধের প্রস্তাবনা বাতিল করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এসব ক্ষতিকর পণ্য কার্যত অনিয়ন্ত্রিতভাবে দেশের বাজারে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাবে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ই-সিগারেট পুনরায় নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়নের আহ্বান
ছবিঃ সংগৃহীত

 ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’-এ ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং নিকোটিন পাউচের মতো উদীয়মান তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধের প্রস্তাবনা বাতিল করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এসব ক্ষতিকর পণ্য কার্যত অনিয়ন্ত্রিতভাবে দেশের বাজারে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাবে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি এবং প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনসহ প্রায় ১৭টি বিশিষ্ট সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ গত ১ মার্চ এক রায়ে তামাকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ই-সিগারেট ও ভ্যাপকে আইনি বৈধতা দেওয়া ওই রায়ের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে ২০০৫ সালে গৃহীত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, সে সময় তৎকালীন সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংশোধনী সেই অর্জনকে ধূলিসাৎ করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন যে, রাজস্ব আয়ের স্বার্থে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়, যা তামাক থেকে অর্জিত রাজস্বের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এই সিদ্ধান্ত মূলত ‘রোগের অর্থনীতি’কেই উৎসাহিত করবে।

বিশ্বজুড়ে গবেষণায় ই-সিগারেটের নেতিবাচক প্রভাব প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের ৪৬টি দেশ ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করলেও বাংলাদেশ এখানে উল্টো পথে হাঁটছে। বর্তমানে ভ্যাপ লিকুইডে ‘এমডিএমবি’-এর মতো বিপজ্জনক মাদক মিশিয়ে সরবরাহ করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা অপরাধমূলক কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অবস্থায় এসব পণ্যের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকা যুবসমাজকে নেশার দিকে ধাবিত করবে।

এছাড়া মাত্র ৬১ কোটি টাকার বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে একটি বহুজাতিক কোম্পানিকে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়াকেও জনস্বার্থবিরোধী বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো ২০০৫ সালের আইনের মূল চেতনা রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দ্রুত আইন সংশোধনের মাধ্যমে ই-সিগারেটসহ সকল আধুনিক তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়েছে।