শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান ঘিরে উত্তেজনা, কাতারে যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাজ্য

ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাতারে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। দোহা শহরের কাছে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।

ইরান ঘিরে উত্তেজনা, কাতারে যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাজ্য
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাতারে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। দোহা শহরের কাছে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার ব্রিটিশ সরকার জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাতার সরকারের আমন্ত্রণে পাঠানো এসব যুদ্ধবিমান যৌথ আরএএফ–কাতারি ইউনিট ‘১২ স্কোয়াড্রন’-এর অংশ হিসেবে কাজ করবে। উদ্দেশ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা আরও জোরদার করা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, এই অংশীদারত্ব দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করে এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা করে। তিনি জানান, যৌথ স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়ক হবে এবং উভয় দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ বহন করছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার রণতরীটি মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামও পাঠানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, “যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি” হিসেবে ইরানের দিকে এই ‘নৌবহর’ পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ভার্জিনিয়ার নরফোক ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র দ্য ন্যাশনালকে জানিয়েছে, এই সামরিক সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্রের মতে, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন কেবল আশ্বাসমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরির উদ্যোগ। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিহত করতে টাইফুন যুদ্ধবিমানকে কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

টাইফুন যুদ্ধবিমান আগে সিরিয়ায় আইএসআইএসের বিরুদ্ধে অভিযান এবং গত বছর ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, কাতারে এই মোতায়েন ‘প্রতিরক্ষামূলক ও সহযোগিতামূলক’ পদক্ষেপ, যা যুক্তরাজ্য–কাতার প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইরান আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে তেহরান ওই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর থাকায় এটি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত।

উল্লেখ্য, গত বছর ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাজ্য অতিরিক্ত ‘কন্টিনজেন্সি সাপোর্ট’ পাঠিয়েছিল, যাতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। এছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়ও নিরাপত্তা সহায়তার অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো শিগগিরই প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে উন্নত রাডার আপগ্রেড পাবে, যা তাদের যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াবে।