শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান সরাসরি মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাবে

পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাড়তে থাকা চাপের মুখে এবার সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি দিল ইরান। দেশটির সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যেই রয়েছে।

ইরান সরাসরি মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাবে

পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাড়তে থাকা চাপের মুখে এবার সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি দিল ইরান। দেশটির সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যেই রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইজিআরসি) ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এসব পদক্ষেপের জবাবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো হামলার পাল্টা জবাবে তারা সরাসরি মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানবে।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে একাধিক ‘দুর্বলতা’ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ইরানের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসরের মধ্যেই পড়ে।

এদিকে তেহরান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক আলী হাশেম জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তগুলোই এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে, ইরান সম্পূর্ণভাবে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। একই সঙ্গে দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির আওতা ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দাবিও তুলেছে ওয়াশিংটন।

তবে এসব দাবি ইরানের কাছে ‘রেড লাইন’ বা অতিক্রম অযোগ্য সীমা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তেহরানের অবস্থান, এসব শর্ত কোনো অবস্থাতেই তারা মেনে নেবে না।

ফলে আলোচনার কথা শোনা গেলেও দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান রয়ে গেছে অনেকটাই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যবধান কমিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংকট এড়াতে আবারও পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি ফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

সূত্র: আল-জাজিরা