শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরান যুদ্ধ, তেলের দাম, ঊর্ধ্বমুখী সুদ—কংগ্রেসে প্রশ্নের মুখে মার্কিন অর্থমন্ত্রী

এরই মধ্যে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাজারেও অস্বস্তি বেড়েছে। মঙ্গলবার ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড ৫ দশমিক ০৩৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ডও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৯১ শতাংশে। দীর্ঘমেয়াদি সুদহার কমানো বেসেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলেও বাজারের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি সেই লক্ষ্য অর্জনকে কঠিন করে তুলছে।

ইরান যুদ্ধ, তেলের দাম, ঊর্ধ্বমুখী সুদ—কংগ্রেসে প্রশ্নের মুখে মার্কিন অর্থমন্ত্রী

ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, মূল্যস্ফীতির চাপ, ট্রেজারি বন্ডের ঊর্ধ্বমুখী সুদ এবং ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি জাতীয় ঋণের বোঝার মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার পরিস্থিতি নিয়ে নির্ধারিত শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাউজ ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির বার্ষিক শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের মুখোমুখি হন বেসেন্ট। এমন এক সময়ে কংগ্রেসে হাজির হয়েছেন তিনি, যখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

ইরান যুদ্ধের জেরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও।

এরই মধ্যে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাজারেও অস্বস্তি বেড়েছে। মঙ্গলবার ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড ৫ দশমিক ০৩৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ডও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৯১ শতাংশে। দীর্ঘমেয়াদি সুদহার কমানো বেসেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলেও বাজারের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি সেই লক্ষ্য অর্জনকে কঠিন করে তুলছে।

মার্কিন অর্থনীতির আরেকটি বড় চাপ হলো জাতীয় ঋণ। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে ফেডারেল বাজেট ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। বেসেন্ট আগে এই ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলেছিলেন। কিন্তু উচ্চ সুদহার ও বড় বাজেট ঘাটতির কারণে সেই লক্ষ্য পূরণে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

ইরান নিয়ে বেসেন্টের ওপর চাপ

ইরান যুদ্ধও কংগ্রেসের শুনানিতে বেসেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুনানির মাত্র এক দিন আগে বেসেন্টের নেতৃত্বাধীন ট্রেজারি বিভাগ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ভিটিবি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানকে সহায়তা করছিল।

শুনানি শুরুর পর বেসেন্টের বক্তব্যের সময় কয়েক দফা বিক্ষোভও হয়। বিক্ষোভকারীরা ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন। অন্যদিকে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ম্যাক্সিন ওয়াটার্স বেসেন্টের অর্থনীতি পরিচালনার সমালোচনা করে সেটিকে ‘নড়বড়ে’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, বেসেন্টের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

তবে নিজের বক্তব্যে মার্কিন অর্থনীতির শক্ত অবস্থানের ওপর জোর দেন বেসেন্ট। তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

শুনানি এখনো চলছে। ফলে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি তেলের দাম, সুদহার, জাতীয় ঋণ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আর্থিক নীতি নিয়ে বেসেন্টকে আরও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।