চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আবহে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
রয়টার্সের বুধবারের (১৩ মে) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরব ইরানি ভূখণ্ডে একাধিক গোপন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। মূলত সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা এবং দেশটির নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানি হামলার প্রতিশোধ নিতেই রিয়াদ এই পদক্ষেপ নেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মে মাসের শুরু থেকে সৌদি আরবের এই সামরিক তৎপরতা এবং পরবর্তী কঠোর কূটনৈতিক অবস্থানের ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে এপ্রিলের শুরু থেকে উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঠিক আগেই এই আঞ্চলিক সমঝোতাটি কার্যকর হয় বলে জানা গেছে।
যুদ্ধ চলাকালীন ইরান পারস্য উপসাগরীয় বা জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের ওপর গোপন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ এপ্রিল আমিরাতের একটি পেট্রোকেমিক্যাল সাইটে ইরানি হামলার জবাবে ইসরায়েলের সাথে সরাসরি সমন্বয় করে ইরানের ‘সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে’ বড় ধরনের যৌথ হামলা চালায় আমিরাত।
সংঘাতকালীন ইসরায়েল আমিরাতকে তাদের অত্যাধুনিক ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েও সহায়তা করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আইসিজি-র ইরান বিষয়ক পরিচালক আলী ভায়ের্জ এই পরিস্থিতিকে উভয় পক্ষের ‘বাস্তববাদী উপলব্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করেন, বড় ধরনের আঞ্চলিক মহাযুদ্ধ এড়াতে এই গোপন সমঝোতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা শিথিল হলেও স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো নিয়ে উভয় দেশই এখনো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।