ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মঙ্গলবার সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ এ বিষয়টি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছেন।
সৌদি যুবরাজ আরও বলেন, “আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর যেকোনো উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করে।”
এর আগে ইরানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধ ঠেকানোর যে কোনো প্রক্রিয়াকে তেহরান স্বাগত জানায়।
সৌদি আরবের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।
এদিকে, গত সোমবার দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, নৌবহর ইতোমধ্যে ইরানের দিকে এগোচ্ছে, কিন্তু সেটি ব্যবহার করতে হবে না বলে তিনি আশা করছেন।
ইরানে বেশ কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভ দমন করতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে সাধারণ পথচারীরাও রয়েছেন। সংগঠনগুলো বলেছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি সবচেয়ে বড় দমন-পীড়নের ঘটনা।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতা ও প্রাণহানির দায় বিদেশে থাকা বিরোধীদের সমর্থিত “সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের” উপর চাপিয়েছে।