জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন।
ইয়েনেত নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের মোটরসাইকেল, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট ভবন, গভর্নর অফিস এবং সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগ করেছেন।
বিরোধী দলঘেঁষা সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তেহরান ছাড়াও বিভিন্ন শহরে একাধিক রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীতে পুলিশের মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক আকস্মিক হামলায় নিহত ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ছবি সংবলিত একটি বিশাল বিলবোর্ডেও আগুন ধরানো হয়। একই সঙ্গে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিতেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। অনেক স্থানে বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা গেছে স্লোগান—‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’।
এই পরিস্থিতির মধ্যে দেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রথম আন্দোলন শুরু করেন। সেই আন্দোলন টানা ১২ দিন ধরে চলতে চলতে এখন আরও বিস্তৃত ও তীব্র রূপ নিয়েছে।