শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঠেকিয়েছে সৌদি, ওমান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ সৌদি আরব, ওমান ও কাতারের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতায় ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েকদিনের চরম উত্তেজনার জনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর দেশগুলোর শেষ মুহূর্তের হস্তক্ষেপে এই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের যুদ্ধাবস্থা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঠেকিয়েছে সৌদি, ওমান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ সৌদি আরব, ওমান ও কাতারের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতায় ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েকদিনের চরম উত্তেজনার জনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর দেশগুলোর শেষ মুহূর্তের হস্তক্ষেপে এই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের যুদ্ধাবস্থা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, গালফ অঞ্চলের এই তিন দেশ দীর্ঘ এবং অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁরা ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন যেন ইরানকে তাঁদের সদিচ্ছা প্রমাণের জন্য আরও একটি সুযোগ দেওয়া হয়। দেশগুলোর পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, এই মুহূর্তে ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ করা হলে পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নেবে। এই হুমকির পর গত বুধবার কাতারের দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে সতর্কতা হিসেবে কিছু মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ করেছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রেখেছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে উত্তেজনা প্রশমনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সৌদি কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, এই সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে গালফ দেশগুলোর প্রতিনিধিদের একটি ‘নিদ্রাহীন রাত’ পার করতে হয়েছে। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করা। তিনি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝিয়েছি যে, ইরানে হামলা হলে এ অঞ্চলে একের পর এক বিপর্যয়কর ধাক্কা আসবে।” বর্তমানে যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।