তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত অবরোধের অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগর থেকে ইরানের পতাকাবাহী তিনটি বিশাল তেলের ট্যাংকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকোম।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক দেশটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির মাত্র এক দিন পরই এই পদক্ষেপ নিল মার্কিন সামরিক শক্তি। জব্দ করা জাহাজ তিনটির নাম ডিপ সি, সেভিন এবং দোরেনা। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনটি জাহাজেই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত ছিল বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাহাজগুলো আটকের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ না করলেও বাণিজ্যিক নৌযান পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরের কোনো এক অঞ্চল থেকে এগুলোকে জব্দ করা হয়েছে। এলাকাটি ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার মূল ভূখণ্ডের বেশ কাছাকাছি। আটকের সময় ইরানি সুপারট্যাংকার ডিপ সি আংশিক তেলবোঝাই ছিল। ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেও মালয়েশিয়া উপকূলে এর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে সেভিন নামক দ্বিতীয় ট্যাংকারটিতে ১০ লাখ ব্যারেল তেল পাওয়া গেছে, যা এর মোট ধারণক্ষমতার ৬৫ শতাংশ। এক মাস আগে সর্বশেষ এটিকে মালয়েশিয়ার জলসীমায় দেখা গিয়েছিল।
সবচেয়ে বড় চালানটি পাওয়া গেছে দোরেনা নামক তৃতীয় জাহাজটিতে। জব্দের সময় এটি সম্পূর্ণ ভর্তি ছিল এবং এতে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গেছে। তিন দিন আগে ভারত মহাসাগরে ভারতের উপকূলীয় এলাকার কাছে এর উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছিল। মূলত গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যকার আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার এক দিন পর ১২ এপ্রিল ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর কঠোর অবরোধের ঘোষণা দেয়। সেই নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয় যে, দ্বিপাক্ষিক কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দর থেকে কোনো জাহাজ বের হতে পারবে না এবং বাইরের কোনো জাহাজ প্রবেশও করতে পারবে না।
এদিকে সেন্টকোমের পক্ষ থেকে বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ অবরোধের ঘোষণা কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৯টি ইরানি জাহাজ ও ছোট নৌযানকে বন্দর থেকে বের হতে বাধা দিয়ে পুনরায় সেখানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমেই তেহরানের ওপর বৈশ্বিক চাপ অব্যাহত রাখতে চায় ওয়াশিংটন।