বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক তরীতে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা বন্ধে ইরানের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও প্রকাশ্য অঙ্গীকার দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওমানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নির্ধারিত একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে সামনে রেখে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর এই প্রতিশ্রুতি আদায়ের চাপ সৃষ্টি করছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো অজ্ঞাতনামা মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে যে, সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের ঘটনাকে একটি অনভিপ্রেত ত্রুটি হিসেবে স্বীকার করেছে ইরান। তবে তেহরানের দাবি, তাদের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী বা উগ্রপন্থী অংশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার জন্য দায়ী, যা মূলত চলমান আলোচনা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে সংঘটিত হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলতি সপ্তাহে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের পরেও দুই পক্ষই কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। অবশ্য হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সর্বশেষ এই হামলার ঘটনাটি গত জুন মাসে উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি চরম লঙ্ঘন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় দাবি করেন, ইরান সর্বদা যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী রক্ষা করে চলেছে এবং উল্টো আমেরিকার দিকেই চুক্তি ভঙ্গের আঙুল তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল ইরান। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে ইরান পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে এবং আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। ওমানের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে একটি কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ইরানকে সর্বসমক্ষে এই ঘোষণা দিতে হবে যে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং সেখানে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আর আক্রমণ চালানো হবে না। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী হামলার জন্য ইরানকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ বা ভুল স্বীকার করার দাবিও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের উদ্দেশ্যে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে ইরান সফর করেছে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছেন যে, ইরান পুনরায় আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করায় তারা সম্মত হয়েছেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্বের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কার্যত সমাপ্ত বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। গত সোমবার ওমান উপসাগরের নিকটবর্তী জলসীমায় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আকস্মিক হামলার পর এই তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন শুরু হয়। দুই দেশই গত মাসে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদি শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্য উপসাগরে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত এড়ানো।