রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইরানের তেল বিক্রিতে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের জেরে ইরানের ওপর আবারো কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়াল ওয়াশিংটন।

ইরানের তেল বিক্রিতে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের জেরে ইরানের ওপর আবারো কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়াল ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজে তেহরানের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেশটির তেল রপ্তানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে মার্কিন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক নৌযানের ওপর ইরানের এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর জন্য তেহরানকে চরম মূল্য দিতে হবে।

বৈশ্বিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের তেল বিক্রির ওপর নতুন করে এই বিধিনিষেধ আরোপের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একলাফে প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি বিভাগ) আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানকে তেল রপ্তানি করার বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা এক ধাক্কায় কমিয়ে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে তেহরানের অর্থনৈতিক খাত বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ল।

এদিকে অর্থনৈতিক অবরোধের পাশাপাশি সামরিকভাবেও ইরানকে চেপে ধরেছে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৮ জুলাই) ইরানি ভূখণ্ডের বেশ কয়েকটি কৌশলগত অবস্থানে ব্যাপক ও শক্তিশালী সিরিজ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় দফায় দফায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী তিনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনী যে হামলা চালিয়েছিল, এটি মূলত তারই পাল্টা জবাব। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই রাতের অন্ধকারে এই শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।