২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারিতেই দুই পর্বে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাবলীগ জামাতের সাদপন্থি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার সময়সূচি চূড়ান্ত করার আগে জুবায়েরপন্থি প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। দুই পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করেই দুই পর্বের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ইজতেমার মূল মাঠ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো মতবিরোধ রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, উভয় পক্ষই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে জুবায়েরপন্থি ও সাদপন্থিদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর হয়েছিল। সেখানে সাদপন্থিদের টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা না করার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সাদপন্থিরা ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা করার দাবি আবারও তুলে ধরেছেন।
সাদপন্থিদের পক্ষ থেকে আরও একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হওয়ার পর রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজন করা যেতে পারে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতামত নেওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসারেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট জুবায়েরপন্থি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠকে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।