শারদীয় দুর্গাপূজার আজ বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল মঙ্গলবার মহানবমীতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। নবমী পূজা ও সন্ধ্যা আরতির পর থেকেই মণ্ডপগুলোতে বেজে ওঠে বিদায়ের সুর। আজ বিজয়া দশমীতে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের আগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হবে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি সদরঘাটে গিয়ে শেষ হবে।
হিন্দু শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নবমী তিথিতে রাবণ বধের পর রাজা শ্রী রামচন্দ্র এ পূজা করেছিলেন। মহানবমীতে নীলকণ্ঠ ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন শাপলা, শালুক ও বলিদানের মধ্য দিয়ে দশভুজা দেবীর আরাধনা করা হয়। নীল অপরাজিতা ফুল নবমী পূজার অন্যতম বিশেষ অনুষঙ্গ। এ ছাড়া ১০৮টি বেলপাতা, আমকাঠ ও ঘি দিয়ে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার উদ্দেশে আহুতি দেওয়া হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। ছয় দিনের আনন্দ-উৎসব শেষে আজ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। দুর্গতি নাশিনী মহিষাসুরমর্দিনীর আরাধনা শেষে দেবী দুর্গা কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন বলে ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে।
মহানবমীতে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে ভক্তদের ঢল নামে। ধর্মীয় রীতি মেনে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়, বিকেলের দিকে তা আরও বাড়ে। পূজা দেখা শেষে অনেকে মণ্ডপের বাইরের অস্থায়ী দোকান থেকে বাহারি খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী কিনে বাড়ি ফেরেন।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। পূজামণ্ডপের সামনে নির্মাণ করা হয় আকর্ষণীয় তোরণ। বিভিন্ন মণ্ডপে ছিল বিশেষ অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজন।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এ বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে বর্ধিত ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি মিলেছে। টানা এই ছুটি উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে।