দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি) লটারি। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা মামলায় গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ডিভি লটারি পুনরায় চালুর পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ডিভি লটারির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবেদন গ্রহণের জন্য নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল ১ নভেম্বর চালুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রম অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?
এবারের ডিভি লটারি কর্মসূচিতে বাংলাদেশ অংশ নিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী যাওয়ায় দেশটি ডিভি কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ে।
মূলত যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী যান, সেসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই ডিভি লটারি চালু করা হয়েছে।
আবেদনের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
আদালতের রায়ে আবেদনকারীদের যোগ্যতার শর্ত, সঠিক ওয়েবসাইটের ঠিকানা এবং আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ডিভি লটারিতে নির্বাচিত করে দেওয়ার নিশ্চয়তা কিংবা অর্থের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো প্রতারকদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ডিভি লটারির আবেদন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশনা ও ওয়েবসাইটের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।