সৌদি আরবের কয়েকটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার পর সৃষ্ট পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদ রুটেও ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে রাষ্ট্রীয় এ উড়োজাহাজ সংস্থাটি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে বিমান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর রাত ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে রিয়াদের উদ্দেশে একটি ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার পর রিয়াদগামী পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দাম্মাম রুটে ইতিমধ্যে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। এসব ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে দুটি ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে এ রুটে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বিমানের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মদিনা রুটে ১৮ অক্টোবর থেকে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করছে। এ রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মদিনাগামী ফ্লাইটের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
ফ্লাইট পরিচালনা ও সময়সূচির পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। টিকিট কেনা, বুকিং ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মামসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার প্রভাবে ঢাকা থেকে ১৩৪টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোট ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী।
বুধবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাতিল বা স্থগিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬১টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। এ বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের। সংস্থাটির ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, সালাম এয়ারের ৭টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।