বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তিন দফা দাবি পূরণ হয়নি, সাজেকে ফের সড়ক অবরোধের ঘোষণা

রাঙামাটির সাজেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হচ্ছে। তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। অবরোধ শুরুর আগে আজ বুধবারের মধ্যেই পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

তিন দফা দাবি পূরণ হয়নি, সাজেকে ফের সড়ক অবরোধের ঘোষণা

রাঙামাটির সাজেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হচ্ছে। তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। অবরোধ শুরুর আগে আজ বুধবারের মধ্যেই পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছয় দিন বিরতির পর আবারও অবরোধ কর্মসূচিতে ফিরছে সংগঠন দুটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অবরোধ শুরু হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ

নতুন করে অবরোধের ঘোষণার পেছনে এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠন দুটি। তাদের দাবি, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানগুলোতে রয়েছেন। কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে মাচলং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িতে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠন দুটির অভিযোগ, সশস্ত্র সদস্যদের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে শতাধিক সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গ্রামবাসীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছে তারা।

তাদের আরও দাবি, নিরাপত্তাহীনতার কারণে জুমচাষিরা নিজেদের জমিতে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কারের কাজ করতে পারছেন না। সশস্ত্র সদস্যদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।

আগেও দুই দফায় অবরোধ

গত ১১ অক্টোবর প্রথম দফায় অবরোধ শুরু করেছিল সংগঠন দুটি। সেদিন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাবি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর আবারও অবরোধ শুরু করে তারা। পরদিন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

আগের অবরোধে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য সরবরাহ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হাটের দিনেও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যায়। পরিবহনসংকটের কারণে জুমের ফসল বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েন চাষিরা। নতুন অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আগের কর্মসূচির সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। এতে সাজেক ইউনিয়নের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা

আগের অবরোধে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় গাড়িবহর পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা গাড়িবহর আটকে দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর পর্যটকবাহী গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

ওই পরিস্থিতিতে সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। ১৫ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও নতুন করে অবরোধের ঘোষণায় পর্যটনকেন্দ্রটির যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তবে অবরোধের মধ্যেও জরুরি সেবা ও সংবাদমাধ্যমের যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছে সংগঠন দুটি। তাদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মরদেহবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।