বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পিঠা, পুরি, পিঁয়াজু ও জুস বিক্রিতেও নিতে হবে নিবন্ধন

রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পিঁয়াজু ও ফলের রসসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করতে হলেও নিবন্ধন নিতে হবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। তবে সরকারের এ উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন নিবন্ধনব্যবস্থা হয়রানি ও জরিমানা আদায়ের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

পিঠা, পুরি, পিঁয়াজু ও জুস বিক্রিতেও নিতে হবে নিবন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পিঁয়াজু ও ফলের রসসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করতে হলেও নিবন্ধন নিতে হবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। তবে সরকারের এ উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন নিবন্ধনব্যবস্থা হয়রানি ও জরিমানা আদায়ের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

নতুন নিয়মের ফলে খাবারের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও একটি অনুমোদন নিতে হবে উদ্যোক্তাদের। বর্তমানে ব্যবসার নিবন্ধন ও ভ্যাট নিবন্ধনসহ বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স বা অনুমোদন নিতে হয় তাঁদের। এবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকেও নিবন্ধন নিতে হবে।

রেস্তোরাঁ, বেকারি ও মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী এবং আমদানিকারকদের নির্ধারিত শ্রেণিগুলোকে নিবন্ধন বা লাইসেন্সের আওতায় আনা হয়েছে। ছোট ব্যবসায়ীদের প্রথমবার বিনা মূল্যে নিবন্ধন দেওয়া হবে। অন্যদিকে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, আমদানি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্ধারিত ফি দিয়ে লাইসেন্স নিতে হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন এবং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিবন্ধনের মাধ্যমে খাবার বিক্রেতাদের একটি তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে তাঁদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা, প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে কাউকে হয়রানি করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

চেয়ারম্যানের ভাষ্য, বর্তমানে অনেকেই রাস্তায় খাবার বিক্রি করছেন। এসব খাবার থেকে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এ কারণেই নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা এ উদ্যোগকে হয়রানির নতুন ‘হাতিয়ার’ হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, এ উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। কারণ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও একটি লাইসেন্স নিতে হয়, কিন্তু বিভিন্ন শর্তের কারণে অনেকের পক্ষে সেটি নেওয়া সম্ভব হয় না।

ইমরান হাসানের আশঙ্কা, নতুন নিবন্ধনব্যবস্থা জরিমানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাঁর মতে, এ খাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমন্বিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্ধারণ করা উচিত ছিল।

যেসব ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন লাগবে

মোট ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং কাঁচা ও তাজা খাদ্য ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারকেরা।

এ ছাড়া পিঠা, পুরি ও পিঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রেতা, পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও হিমাগার এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসাও এ তালিকায় রয়েছে।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যে লাগবে লাইসেন্স

শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারের ব্যবসা করতে নিবন্ধনের পাশাপাশি লাইসেন্স নিতে হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে স্বাস্থ্যসহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালের নির্ধারিত ব্যবসার ক্ষেত্রে।

এ ছাড়া জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, অভিনব খাদ্য এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের ব্যবসা করতে লাইসেন্স নিতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য প্রথমবার বিনা মূল্যে নিবন্ধন দেওয়া হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্স নিতে ফি দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ফি ৬০ হাজার টাকা।

নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। এ ছাড়া খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এতে ভোক্তারা পণ্যের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অভিযোগ জানানোর সময় নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন।

যেভাবে আবেদন করতে হবে

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর তফসিল ১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে।

প্রাথমিকভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে পুরো আবেদনপ্রক্রিয়া অনলাইনে চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, যেসব খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক, সেগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।