শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি নারী নেত্রীদের

কর্মজীবী নারীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নারী অধিকার কর্মীরা। আজ রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা এই লিখিত আবেদন জমা দেন।

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি নারী নেত্রীদের
ছবিঃ সংগৃহীত

কর্মজীবী নারীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নারী অধিকার কর্মীরা।

আজ রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা এই লিখিত আবেদন জমা দেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের প্রতি যে অবমাননাকর উক্তি করা হয়েছে, তা দেশের কোটি শ্রমজীবী নারীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। যদিও দলটির পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি ‘হ্যাকিং’ হওয়ার দাবি করা হয়েছে, তবে এর সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা স্বচ্ছ তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

নারী নেত্রীরা কমিশনের কাছে প্রধানত তিনটি দাবি পেশ করেছেন। প্রথমত, নির্বাচনী আচরণবিধি ও নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা অবিলম্বে বাতিল করা। দ্বিতীয়ত, বিতর্কিত ওই মন্তব্য প্রত্যাহার করে দেশের সকল কর্মজীবী নারীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তৃতীয়ত, তথাকথিত হ্যাকিংয়ের যে দাবি তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা।

মোশরেফা মিশু অভিযোগ করেন, হ্যাকিংয়ের দায়ে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে। পরবর্তীতে জানা গেছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মেলেনি, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ করে পোশাক শিল্পে নারীদের অবদান অপরিসীম। এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সংবিধানের সমঅধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, রাজনৈতিক নেতাদের এমন মন্তব্য সমাজে নারীবিদ্বেষী মনোভাব এবং সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই বৈঠকে আরও অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের নেত্রী শবনম হাফিজ, এনপিএ-এর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।