রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জাতীয় সংসদে বিএনপির অবস্থান নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির কড়া সমালোচনা

সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদ সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী অঙ্গীকারগুলো থেকে সরে আসার জন্য বিএনপির সংসদ সদস্যদের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

জাতীয় সংসদে বিএনপির অবস্থান নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির কড়া সমালোচনা
ছবিঃ সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদ সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী অঙ্গীকারগুলো থেকে সরে আসার জন্য বিএনপির সংসদ সদস্যদের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

রোববার সন্ধ্যায় সংসদের অধিবেশনে জুলাই সনদ বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সরকারদলীয় সদস্যরা অতীতের সিদ্ধান্তগুলো বিস্মৃত হয়ে রাজনৈতিক অসঙ্গতি প্রদর্শন করছেন।

আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বর্তমানে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা আদতে কোনো নতুন বিষয় নয়। বরং ঐকমত্য কমিশনে সকল রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তিনি জানান, এনসিপি শুরুতে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান তৈরির প্রস্তাব দিলেও পরবর্তীতে সবার সম্মতিতে একটি বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিএনপির সদস্যরা সেই আলোচনার নির্যাস ভুলে গিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

বক্তব্যে তিনি সংস্কার বাস্তবায়নের পাঁচটি ধাপ—জুলাই সনদ, আদেশ, অধ্যাদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ—সম্পূর্ণভাবে কার্যকরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, বিএনপি এখন কেবল সুবিধাজনক অংশ নিয়ে কথা বলছে এবং গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোকে এড়িয়ে যেতে চাইছে। এছাড়া ঐকমত্য কমিশনের মূল খসড়ায় কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে এটি যুক্ত করা জাতির সাথে প্রতারণার শামিল। এ বিষয়ে তিনি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান।

আখতার হোসেন আরও বলেন, যারা এখন গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করছেন, তারা মূলত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকেই অস্বীকার করছেন। একসময় গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে এখন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিএনপির রাজনৈতিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে জারি করা আদেশের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিরর্থক বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি সরকারপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।