মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জাতীয় নির্বাচনে ছাড় দিয়েছি, স্থানীয় নির্বাচনে ছাড়ের সুযোগ নেই : সারজিস

জাতীয় নির্বাচনে ছাড় দেওয়া হলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউকে বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

জাতীয় নির্বাচনে ছাড় দিয়েছি, স্থানীয় নির্বাচনে ছাড়ের সুযোগ নেই : সারজিস
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনে ছাড় দেওয়া হলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউকে বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

শনিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। গণভোটের রায় কার্যকর, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে '১১ দলীয় ঐক্য' এই বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে যারা স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে, তাদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষের আত্মত্যাগের পর ক্ষমতায় আরোহণ করে তিন মাস পার না হতেই তারা প্রমাণ করেছে যে, দেশের চেয়ে ব্যবস্থার চেয়ে ক্ষমতাই তাদের কাছে মুখ্য। তিনি বলেন, নতুন সরকার প্রতিটি পদক্ষেপে এক ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। মোট ভোটারের অর্ধেক সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় গেলেও তারা ভুলে গেছে যে, দেশের সত্তর শতাংশ মানুষ একটি আমূল পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছিল।

বিএনপি নেতৃত্বের উদ্দেশে এই ছাত্রনেতা মনে করিয়ে দেন, এবার জনগণ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চেহারা দেখে ব্যালটে সিল মারেনি, বরং তারা ভোট দিয়েছে জিয়াউর রহমানের ধানের শীষ প্রতীক এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে। এই ঐতিহাসিক সত্য ভুলে গিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে কিংবা গণভোটের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে দেশের রাজনীতি থেকে দলটি একাকী ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক বলেন, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে পরোক্ষভাবে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা হতো। আর বর্তমান শাসনামলে কোনো রাখঢাক না রেখেই দলীয় পদধারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে প্রকাশ্য দিবালোকে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

সীমান্ত সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে কাঁটাতারে ঝুলন্ত লাশ আমরা দেখেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, গত এক সপ্তাহেও সীমান্তে তিন বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, অথচ ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদে কোনো জোরালো বা শক্ত বক্তব্য আসেনি। সার্বভৌমত্ব, জাতীয় মর্যাদা ও নাগরিকদের জীবন কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র বা এজেন্সির কাছে বন্ধক রেখে এ দেশে রাজনীতি চলতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশে নতুন করে চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বণ্টন করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এই প্রশাসন কি কেবল একটি দলের নাকি পুরো বাংলাদেশের?

ভোটের অধিকার নিয়ে কোনো আপস করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা করে, তবে উপনির্বাচনের মতো ভোট বর্জন করে ঘরে বসে থাকার দিন শেষ। অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচির প্রশংসা করার পাশাপাশি এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মূল নদী তথা পদ্মাতেই যদি পানি না থাকে, তবে খাল খনন করে সাধারণ মানুষের কোনো লাভ হবে না। শুষ্ক খালের পানির উৎস নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জনআকাঙ্ক্ষা ধারণ করে অতি দ্রুত রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদী মনোভাব রুখে দিতে হবে।