শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ

ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার দিনটিকে স্মরণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬'।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ
ছবি : সংগৃহীত
ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার দিনটিকে স্মরণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬'। ঐতিহাসিক এই দিনটি উদ্‌যাপনে জাতীয় স্তরে দিনব্যাপী বিবিধ আনুষ্ঠানিকতার রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। কর্মসূচির সূচনাতে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর'-এর দ্বার উন্মোচন করবেন।

এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশেষ এই ক্ষণটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান পৃথক বিশেষ বাণী প্রদান করেছেন। দিনের শুরুতেই দেশের সবকটি জেলার শহীদ স্মৃতিসৌধে সরকারি-বেসরকারি সর্বস্তরের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে।

সকাল ১১টায় রাজধানী শহরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন ভবনে জুলাইয়ের বীর যোদ্ধা ও শহীদ স্বজনদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি বিশেষ আলোচনা সভার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ ওই অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

স্বীকৃত এই দিবসটি প্রসঙ্গে নিজের লিখিত বাণীতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম দেশের সবাইকে জুলাই সংগ্রামের চেতনায় জাগ্রত হয়ে একটি সমতাভিত্তিক, ন্যায়ের পথ ধরে চলা স্বাবলম্বী দেশ গড়ার আহ্বান জানান। মুক্তিসংগ্রাম ও ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের আদর্শিক স্বপ্ন রূপায়ণে দলমত নির্বিশেষে সকলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি।

পৃথক এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বহু বছরের প্রতাপশালী শাসনের যবনিকাপাত ঘটিয়ে জনগণের ভোট ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার প্রতীক ছিল ৫ আগস্টের গণসংগ্রাম। সেই আত্মত্যাগের ফলে সৃষ্টি হওয়া গণঐক্যকে টেকসই রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, দেশের মাটিতে ভবিষ্যতে আর কখনোই একনায়কতন্ত্র কিংবা কোনো চরমপন্থার স্থান হবে না।

দিবসটির মাহাত্ম্য প্রকাশে ঢাকাসহ প্রতিটি প্রধান নগরের প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলোতে আন্দোলন সংক্রান্ত ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র সার্বজনীন দেখার আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমসমূহসহ বেসরকারি সব টেলিভিশন ও বেতার কেন্দ্রে এ কেন্দ্রিক বিশেষ আলেখ্য ও টকশো প্রচারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চতর সকল পাঠশালায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও গোলটেবিল আলোচনার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এর বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থিত দেশের প্রতিনিধিত্বকারী মিশনগুলোতেও নেওয়া হয়েছে স্মরণসভা। সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে মধ্যাহ্ন প্রার্থনার পাশাপাশি বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হবে।

নগরীর বড় বড় রাজপথ ও সংযোগ সড়কসমূহকে লাল-সবুজের নিশানসহ বিবিধ তথ্য সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত করা হয়েছে। সকল শহীদ বেদি নৈশকালে আলোকমালায় সাজানো হবে। একই সঙ্গে ডাক বিভাগের তরফ থেকে বিশেষ স্মারক মুদ্রা ও টিকিট বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জাদুঘরগুলোতে সাধারণ দর্শনার্থীরা কোনো প্রকার মাশুল ছাড়াই সারাদিন প্রবেশের সুযোগ পাবেন। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে শিশুরা কোনো টিকিট ছাড়াই সারাদিন ভ্রমণের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি চিকিৎসা কেন্দ্র, কারাগার, সরকারি শিশু আবাসন কেন্দ্র ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ খাবারের বন্দোবস্ত কার্যকর করা হয়েছে।