জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)-এর নেতা সারজিস আলম বিএনপি ও দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা একসময় তাঁদের সহযোদ্ধা থাকলেও তারা যদি বিগত সরকারের অঙ্গসংগঠনগুলোর মতো সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলন দমনের পথ বেছে নেয়, তবে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, আগামী দিনের বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে ভিন্ন মত ও দলকে দমন করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
উত্তরাঞ্চলের এই মুখ্য সংগঠক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর যদি সাধারণ মানুষ পিছিয়ে যায় কিংবা প্রতিবাদ করা বন্ধ করে দেয়, তবে ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে তারা আরও বড় স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করবে। আর এই ধরনের কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষকে নতুন করে আর কোনো সহানুভূতির রাজনীতি কিংবা কার্ড গেমের ফাঁদে পড়তে দেওয়া যাবে না।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপি নেতা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীন ও পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের দাবি জানিয়ে আসলেও ক্ষমতায় আসার পর দলটি এখন বিচার বিভাগকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টকে দলীয়করণের উদ্দেশ্যে পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত আইনটি বাতিল করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, একদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, যা মূলত এক ধরনের প্রতারণা।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে এই রাজনৈতিক কর্মী বলেন, হত্যাকারীরা প্রতিবেশী দেশ ভারতে গ্রেপ্তার হলেও মাসের পর মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। এই বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের স্পষ্ট জবাব দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে বিএনপি এর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না। পরিশেষে এনসিপির এই নেতা প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে এবং তাঁদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।