শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

যারা জুলাই বিপ্লবের আবেগকে পুঁজি করে নতুন রাজনৈতিক দল বা সংগঠন গড়ে তুলেছেন, তাদের শুধুমাত্র এই চেতনা বিক্রি করে দীর্ঘ মেয়াদে রাজনীতি না করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল এই একটি ইস্যুর ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যারা কেবল সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টা হওয়ার উদ্দেশ্যে জুলাইয়ের আন্দোলনকে ব্যবহার করেছেন, তাদের এখনই সময় এসেছে পরিবর্তনের। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন ধারা প্রবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি তাঁর তরুণ বন্ধুরা দিয়েছিলেন, তা যেন জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়। তবে এই নতুন ব্যবস্থা কোনোভাবেই পুরনো কাঠামোর আদলে হওয়া উচিত নয়। মুখে নতুন রাজনীতির কথা বলে আড়ালে আওয়ামী লীগের দোসর কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের সাথে আঁতাত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আদর্শিক অবস্থানের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই দলটি জুলাইয়ের কথা বললেও মূলত ১৯৪৭ সালের আদর্শে ফিরে যেতে চায়। তিনি এর আগে জাতীয় সংসদেও বলেছিলেন যে, ১৯৪৭ সালের প্রেক্ষাপটে তাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তারা নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে ১৯৪৭ সালকে গ্রহণ করলেও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বর্জন করছে এবং আবার ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের দাবি করছে, যা চরম বৈপরীত্য।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের অনেক নেতা বর্তমানে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরণের সরকারবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন এবং সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তিনি সেই সমস্ত নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি কোনো দাবি থাকে তবে তা সংবিধান সংস্কার কমিটির টেবিলে এসে বলা উচিত। কারণ সাংবিধানিক নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো লঙ্ঘন করে কোনোভাবেই সংবিধানের সংস্কার করা সম্ভব নয়। সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একজন বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেছেন যে আদালতের রায়ে দেশে গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে। কিন্তু তিনি মূলত আইনি বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেননি। তারা যে ধরনের গণভোটের দাবি করছেন, তা কোনো সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং অতীতে রাষ্ট্রপতির আদেশে কোনো আইনি এখতিয়ার ছাড়াই তা করা হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনের শাসন সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে না পারার কারণে দেশে এক ধরণের 'মব জাস্টিস' বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে কিছু অকার্যকর কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যা মূলত কর্মহীন কিছু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা ছাড়া আর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুমের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অপরাধের ধরণ অনুযায়ী গুমের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা শাস্তির বিধান রাখা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি শক্তিশালী 'গুম প্রতিরোধ আইন' বিল আকারে পেশ করা হবে। কোন বিশেষ আদালতে এই অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে, তা সেই আইনে বিস্তারিত আলোচনা ও নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।