শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কারাগার থেকে ভোট দিলেন সালমান, আনিসুল, পলকরা

দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় যুক্ত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। প্রথমবারের মতো কারাবন্দিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কারাগার থেকে ভোট দিলেন সালমান, আনিসুল, পলকরা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় যুক্ত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। প্রথমবারের মতো কারাবন্দিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া এ বিশেষ ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত নিবন্ধিত ৫ হাজার ৯৯০ জন বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৬৭ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দেশের চলমান সংস্কার বিষয়ক গণভোটেও অংশগ্রহণ করছেন।

কারা সূত্র জানায়, শনিবার এই বিশেষ ভোট কার্যক্রমের শেষ দিন। এদিন নিবন্ধনকৃত বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন বন্দিও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট না দিলে তাদের ভোটাধিকার বাতিল হয়ে যাবে বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন কারাগারে আটক থাকা একাধিক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত ভিআইপি বন্দি। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ৩৯ জন হাই-প্রোফাইল বন্দি ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও জুনাইদ আহমেদ পলক।

নিবন্ধিত ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব এবং পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। ভোট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকা বিভাগকে দুটি সাংগঠনিক অংশে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগ-১ এলাকায় নিবন্ধিত বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৬ জন এবং ঢাকা বিভাগ-২ এলাকায় ১ হাজার ১৮৩ জন।

ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, প্রতিটি নিবন্ধিত বন্দিকে একটি প্যাকেটে তিনটি খাম দেওয়া হচ্ছে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারের পাশাপাশি গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ লেখা পৃথক ব্যালট পেপার সংযুক্ত থাকছে।

বন্দিরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিয়ে খামগুলো আঠা দিয়ে সিল করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিচ্ছেন। পরে ডাক বিভাগের মাধ্যমে এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় সেগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটের সঙ্গে এসব পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে।

কারা অধিদপ্তরের হিসাবে, ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন এবং শুক্রবার ৪২০ জন বন্দি ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অ্যাপের সহায়তায় গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ওই সময় দেশের ৭৫টি কারাগারে মোট ৮৬ হাজার বন্দি থাকলেও ভোটের জন্য নিবন্ধন করেন মাত্র ৫ হাজার ৯৯০ জন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় ৩৮০টি আবেদন বাতিল হয় এবং বাকিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করেননি। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।