তরুণ সমাজ ও অনলাইন মাধ্যমে পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের আকস্মিক প্রয়াণে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, কারিনা কায়সারের এই অকাল চলে যাওয়া দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণসংগ্রাম, সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে।
এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক তাঁর শোকবার্তায় আরও যুক্ত করেন, জুলাই মাসের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে কারিনা কায়সারের প্রত্যক্ষ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর অনড় অবস্থান ইতিহাসের পাতায় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে টিকে থাকবে। তিনি শুধু নাট্য কিংবা বিনোদন জগতের একজন সাধারণ কর্মী ছিলেন না, বরং যেকোনো সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে নিজের নৈতিক অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় চরম দমনপীড়ন ও সংকটের দিনগুলোতেও তিনি সাধারণ জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের শিল্প ও সংস্কৃতিকে প্রতিরোধের এক অন্যতম হাতিয়ারে রূপ দিয়েছিলেন।
আসিফ মাহমুদ মনে করেন, কারিনা কায়সারের এই আপসহীন চেতনা এবং বিপ্লবী মানসিকতা আগামী দিনের তরুণ প্রজন্মের জন্য পথ চলার বড় অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে। তিনি পরলোকে এই মরহুমের আত্মার চিরশান্তি ও মাগফিরাত প্রার্থনা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। সেই সাথে এই কঠিন সময়ে শোকস্তব্ধ পরিবার-পরিজন, দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা এবং তাঁর অসংখ্য গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
পারিবারিক ও চিকিৎসাসূত্রে জানা গেছে, লিভারের মারাত্মক জটিলতায় ভুগে চিরতরে চোখ বুজেছেন এই তরুণ অভিনয়শিল্পী। শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক হৃদয়বিদারক বার্তার মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর বাবা এবং বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খ্যাতিমান রক্ষণভাগের খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি জানান, ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর আদরের কন্যা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে।
শোকাতুর বাবা কায়সার হামিদ তাঁর বার্তায় আরও অনুরোধ করেন, তাঁর মেয়ের জীবনে যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে কিংবা চলার পথে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে যেন সবাই তাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। একই সাথে মেয়ের এই কঠিন অসুস্থতার দিনগুলোতে এবং শেষ সময়ে যারা চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন, প্রার্থনা করেছেন ও নানাভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সাবেক এই কৃতি ফুটবলার।