সতর্কবার্তা ও সাংগঠনিক ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে এখনও নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু পক্ষ প্রকাশ্যে এবং কিছু পক্ষ পর্দার আড়ালে থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশ ও দলের স্বার্থে এদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনগণই দলের মূল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা ও সমর্থন ধরে রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের সঙ্গে কোনোভাবেই দূরত্ব তৈরি করা যাবে না। তারা যেভাবে দলকে ভালোবাসা দিয়েছে, সেই মর্যাদা রক্ষায় নেতাকর্মীদের বিনয়ী ও জনবান্ধব হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের গ্রুপিং বা বিভক্তির রাজনীতি বরদাশত করা হবে না। কর্মীদের অমুক বা তমুকের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ দলের ভেতরে ফাটল তৈরি করে। সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি অতীতের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, নেতাকর্মীরা ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজ এই অবস্থানে এসেছেন। তাই নিজেদের আচরণে যেন কেউ কষ্ট না পায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
শাসন ও শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি দলের দাপট দেখিয়ে নয়, বরং নিজেদের দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে হবে। কেউ যদি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা ভুল পথে হাঁটে, তবে প্রথমে তাকে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। এরপরও যদি কেউ স্বেচ্ছাচারিতা চালায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন মাস জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। একইসঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী কয়েসের সভাপতিত্বে এবং জেলা ও মহানগর সাধারণ সম্পাদকের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। দিনভর সিলেটে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দলীয় এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।