কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রসহ ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার দুই দফায় হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা এই অকাল শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জেলার হাওরবেষ্টিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলীসহ সদর উপজেলা, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, কটিয়াদী ও ভৈরবে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে শিলাপাতের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট বরফের স্তূপে সাদা হয়ে যায়। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব মতে, মিঠামইন উপজেলায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর এবং পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। হোসেনপুর, কুলিয়ারচর ও ভৈরবেও কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে।
পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ধানের পাশাপাশি সবজি ক্ষেতেও শিলার আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে কৃষকদের চোখেমুখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, শিলাবৃষ্টির কারণে বোরো ধানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব হাওরাঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এদিকে নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় ১৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।