রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

কক্সবাজার হবে সিঙ্গাপুর-হংকংয়ের চেয়েও উন্নত পর্যটন নগরী: ডা. শফিকুর রহমান

আসন্ন নির্বাচনকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ৫৪ বছরের ‘বস্তাপচা রাজনীতি’ ও ফ্যাসিবাদের কবর রচনার দিন। পচে যাওয়া নেতৃত্ব দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কক্সবাজার হবে সিঙ্গাপুর-হংকংয়ের চেয়েও উন্নত পর্যটন নগরী: ডা. শফিকুর রহমান

আসন্ন নির্বাচনকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ৫৪ বছরের ‘বস্তাপচা রাজনীতি’ ও ফ্যাসিবাদের কবর রচনার দিন। পচে যাওয়া নেতৃত্ব দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গতকাল সোমবার কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও ঘুণে ধরা রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখানোর মধ্য দিয়েই ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে।

ঝটিকা সফরে জনসমুদ্রে জনসভা

সোমবার দিনভর হেলিকপ্টারে ঝটিকা সফরে মহেশখালী, কক্সবাজার শহর, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সীতাকুণ্ডে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের জনসভায় অংশ নেন ডা. শফিকুর রহমান। প্রতিটি সমাবেশেই কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় সভাস্থল।

নির্বাচন ও ‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে কঠোর অবস্থান

কক্সবাজার শহরের গোল চত্বর মাঠের সমাবেশে তিনি বলেন,

“আসন্ন নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। যারা জুলাইবিপ্লবের বীরদের চেতনা ধারণ করে না, তরুণরা তাদের সাথে নেই।”

তিনি আরও বলেন,

“বগলের নিচে ঋণখেলাপি রেখে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কথা বললে পেঁচাও হাসবে। জনগণ এত বোকা নয়।”

লোহাগাড়ার জনসভায় গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিরোধিতা করলে জনগণ ধরে নেবে তারা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,

“আমরা ১৮ কোটি মানুষের সামনে বুক ফুলিয়ে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলছি। আপনারা কেন লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলেন?”

তিনি যোগ করেন,

“যারা জুলাইযোদ্ধাদের উপহাস করছে, তাদের সময় শেষ হয়ে এসেছে।”

নারী সম্মান ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার

সীতাকুণ্ডের জনসভায় নারীদের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ডা. শফিক বলেন,

“মায়েরা আমাদের মাথার তাজ। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে হবে।”

এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুকে নিয়ে সাইবার বুলিংয়ের সমালোচনা করে কক্সবাজারে তিনি বলেন,

“নারীদের অপমান করা চরম ইতরশ্রেণীর কাজ। আমরা মিতুদের কথা দিচ্ছি, নতুন বাংলাদেশে মায়েরা ঘরে ও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবেন।”

একই সভায় তিনি সতর্ক করে বলেন,

“আগে স্লোগান ছিল ‘আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো।’ এবার তা হতে দেয়া হবে না। যারা দস্যিপনা করতে আসবে, তাদের হাত গুটিয়ে দেয়া হবে।”

যুবসমাজ ও কর্মসংস্থান

কক্সবাজারের সমাবেশে তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন,

“আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। আমরা তাদের হাতকে দক্ষ ও মজবুত করে সম্মানের কর্মসংস্থান দিতে চাই।”

তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে যুবকদের নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।

মহেশখালী ও কক্সবাজার উন্নয়নের রূপরেখা

মহেশখালীর জনসভায় জামায়াত আমির ঘোষণা দেন, ক্ষমতায় গেলে সেখানে ‘স্মার্ট ইকোনমিক জোন’ গড়ে তোলা হবে এবং লবণ শিল্প আধুনিকায়ন করা হবে। সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে কক্সবাজারকে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও উন্নত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি সোনাপুর–রামগতি–কমলনগর হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেললাইন ও নদীবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিচার, প্রশাসন ও পাচারকৃত অর্থ

হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

“আবু সাঈদ ও আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না… এদের বিচার হতেই হবে।”

তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিশোধ নয়, ইনসাফ কায়েমই মূল লক্ষ্য।

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন,

“কোন আমলে কে নিয়োগ পেয়েছে, তা দেখে কাউকে বাদ দেয়া হবে না… প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা হবে জনগণের সেবক।”

পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে তার ঘোষণা,

“দেশ থেকে যে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে, চোরদের পেটের ভেতর থেকে সেই টাকা বের করে আনা হবে।”

নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা

নারীদের কল্যাণে বিশেষ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার ব্যয় সরকার বহন করবে এবং ঘর, রাস্তা ও কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

প্রার্থী পরিচিতি ও প্রতীক প্রদান

বক্তব্য শেষে তিনি বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং প্রতীক হস্তান্তর করেন। লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুকের হাতে ‘ছাতা’ প্রতীক, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের একাধিক আসনের প্রার্থীদের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’, এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপি নেতা জুবাইরুল আরিফের হাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক তুলে দেন।

সভাগুলোতে সভাপতিত্ব করেন আলাউদ্দিন শিকদার, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী ও মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী। আরও বক্তব্য দেন করনেল অলি আহমদ, আনম শামশুল ইসলাম, মুহাম্মদ শাহজাহান, সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, এস এম ফরহাদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,

“আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।”

চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী করার ঘোষণা

চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর স্কুল মাঠের জনসভায় তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী করা হবে। তিনি বলেন,

“মজলুম ছিলেন, এখন জালিম হবেন না… অপবাদ দিয়ে আমাদেরকে ঠেকানো যাবে না।”

সভা শেষে তিনি চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ প্রতীক তুলে দেন।