লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি নারী দিপালী আক্তারের মরদেহ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে সরকারের পক্ষে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ শেষে দিপালীর দেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিপালীর এই ক্ষতি পূরণ করা অসম্ভব। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার শুরু থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং প্রবাসীদের সুরক্ষায় প্রশাসন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার জেরে এ পর্যন্ত আটজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দিপালী আক্তারের মরদেহসহ এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের মধ্যে একজনের দাফন সৌদি আরবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত জটিলতায় ইরাকে নিহত এক প্রবাসীর মরদেহ এখনো সেখানে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মরদেহগুলো দেশে আনতে কেন সময় লাগছে, তার ব্যাখ্যায় শামা ওবায়েদ বলেন, প্রতিকূল পরিবেশ এবং বিভিন্ন দেশের আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেকটা সময় ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যোগাযোগ সচল রাখতে হচ্ছে। তবে সরকার প্রতিটি মরদেহ দ্রুততম সময়ে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল বৈরুতের হামরা অঞ্চলে নিজ নিয়োগকর্তার পরিবারের সঙ্গে থাকাকালীন ইসরায়েলি মিসাইল হামলার শিকার হন দিপালী আক্তার। বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, সেই প্রাণঘাতী হামলায় দিপালীর পাশাপাশি তার নিয়োগকর্তা ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও মৃত্যুবরণ করেন।