শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন রণতরী, ইরান ও হিজবুল্লাহর পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একটি শক্তিশালী নৌবহর। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন রণতরী, ইরান ও হিজবুল্লাহর পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এসে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একটি শক্তিশালী নৌবহর। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকম জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠানোর ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতাতেই বর্তমান মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

এই শক্তিবৃদ্ধির জবাবে তেহরান কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের রণতরী মোতায়েন করে ইরানি জাতিকে রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্প থেকে তেহরানকে বিচ্যুত করা যাবে না।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যেকোনো হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখবে এবং তার জবাব হবে ‘অনুতাপ উদ্রেককারী’। গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন হামলার ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের জেরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সংঘাতমুখী হয়ে উঠেছে।

একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং এই লড়াইয়ে হিজবুল্লাহ কখনোই নিরপেক্ষ থাকবে না।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্ট করেছে, তারা তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহার করতে দেবে না। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমানঘাঁটি মার্কিন বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হলেও আমিরাতের এই অবস্থান কূটনৈতিকভাবে বড় বার্তা বহন করছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, শুধু নৌবহর নয়, ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হচ্ছে। সপ্তাহান্তে মার্কিন সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিমান শক্তি দ্রুত মোতায়েন ও ধরে রাখার সক্ষমতা দেখাতে তারা একটি সামরিক মহড়া পরিচালনা করবে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই সামরিক হুমকি ইরান–মার্কিন দীর্ঘদিনের বৈরিতাকে আরও বিপজ্জনক মোড়ে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য কার্যত এক বিস্ফোরক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তই ডেকে আনতে পারে দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধ।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড