রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

'মিথ্যা আশ্বাসে ইরানকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে'

ইরানকে একের পর এক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও অস্পষ্ট আশ্বাসের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তার মতে, কখনো চাপ, আবার কখনো আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব কোনো সমাধানের দিকে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি।

'মিথ্যা আশ্বাসে ইরানকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে'

ইরানকে একের পর এক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও অস্পষ্ট আশ্বাসের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তার মতে, কখনো চাপ, আবার কখনো আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব কোনো সমাধানের দিকে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মস্কোয় আল-বাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়া ইরানের অবস্থানকে বুঝতে পারে। তিনি জানান, ইরানও মনে করে অতীতেও তারা একই ধরনের প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়েছে, যা বাস্তবায়িত হয়নি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনার উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান। তবে ইরান প্রতিনিধি না পাঠানোয় সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

ল্যাভরভ বলেন, পাকিস্তানে সম্ভাব্য আলোচনার পরিস্থিতি রাশিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক মোড় নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যদি ২০১৫ সালের মতো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে তা বড় অর্জন হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে একটি পারমাণবিক চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয় এবং বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

তবে ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেন। এতে চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ল্যাভরভ বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় নানা ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “হুমকি ও প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু বাস্তব ফল নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনৈতিক আস্থার সংকটকেও তুলে ধরে। ২০১৫ সালের চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ইরানের আস্থা কমে গেছে, ফলে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানো আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়া–চীনের মতো শক্তিধর দেশগুলোর ভূমিকা মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নতুন কোনো চুক্তি হলে তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।