রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ভালো না, করতে হচ্ছে প্লাস্টিক সার্জারি

তেহরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে এক অস্থির ও নাটকীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক এক বিধ্বংসী হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং তার উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে লোকচক্ষুর আড়ালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ভালো না, করতে হচ্ছে প্লাস্টিক সার্জারি
ছবি : সংগৃহীত

তেহরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে এক অস্থির ও নাটকীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক এক বিধ্বংসী হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং তার উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে লোকচক্ষুর আড়ালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই হামলায় মোজতবা খামেনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মোজতবার একটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এছাড়া তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট ভীষণভাবে পুড়ে যাওয়ায় তিনি বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সক্ষমতা হারিয়েছেন। তার চেহারা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদী প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংকটকালীন সময়ে ইরানের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে ধর্মীয় নেতাদের চেয়ে সামরিক জেনারেলদের প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা এখন মূলত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদোলরেজা দাভারি জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে কেবল একজন বোর্ড পরিচালকের মতো নামমাত্র দায়িত্ব পালন করছেন, আর নেপথ্যে থেকে রাষ্ট্রের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করছেন প্রভাবশালী জেনারেলরা। ইসরায়েলি গোয়েন্দা নজরদারি ও পুনরায় হামলার ঝুঁকি এড়াতে শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা মোজতবার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছেন। তার চিকিৎসার পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও মোজতবা খামেনি মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তার পায়ে তিনটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি হাতের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। তবে তিনি নিজের শারীরিক দুর্বলতা প্রকাশ করতে চান না বলে বর্তমানে কোনো মৌখিক বার্তা দিচ্ছেন না। পরিবর্তে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সকল দিকনির্দেশনা তিনি কেবল লিখিত আকারে প্রদান করছেন। মোজতবার এই অন্তরাল এবং অসুস্থতার সুযোগে ইরানের শাসন ব্যবস্থায় আলেমদের চিরাচরিত প্রভাব কমে আসছে এবং কট্টরপন্থী সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ হয়ে উঠছে।

ক্ষমতার এই নতুন সমীকরণে রেভল্যুশনারি গার্ডসের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব আহমদ ওয়াহিদি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদ্র এখন দেশ পরিচালনায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছেন। অন্যদিকে নির্বাচিত সিভিল প্রশাসন ও মন্ত্রিসভাকে কেবল রুটিন মাফিক প্রশাসনিক কাজ ও সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকির মতো সাধারণ দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সামরিক বাহিনী এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির মতো স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়েও সরাসরি অংশ নিচ্ছে। প্রথমবারের মতো ইরানের উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি দলে শীর্ষ জেনারেলদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মোজতবা খামেনির অসুস্থতা এবং জেনারেলদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ইরানকে কার্যত একটি সামরিক শাসিত কাঠামোর দিকে ধাবিত করছে। পর্দার অন্তরালে থাকা এই সামরিক নেতৃত্বের কৌশল এবং মোজতবার শারীরিক উন্নতির ওপরই এখন দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।