নীলফামারীর জলঢাকা থানা পুলিশ একটি সফল অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চুরির সুসংগঠিত চক্রের প্রধান শাহিন ও তার সহযোগী আব্বাসকে আইনের আওতায় এনেছে।
অপরাধীদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া বত্রিশটি মোটরসাইকেল জব্দ করতে সক্ষম হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশের এলাকায় শনিবার রাতে বিশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট থানার শীর্ষ কর্মকর্তা নাজমুল আলম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, আটককৃত এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলায় গড়ে ওঠা মোটরসাইকেল চুরির একটি বড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা উভয়েই জলঢাকা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেশ কিছুদিন ধরে নীলফামারী এবং এর আশপাশের জনপদে মোটরবাইক চুরির উপদ্রব ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার রাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় হানা দিয়ে এই চক্রের মূল হোতা শাহিনকে ধরে ফেলে পুলিশ।
পরবর্তীতে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হলে শাহিন তাদের চুরির গোপন আস্তানা ও বিপণন নেটওয়ার্কের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে রাতেই পুলিশের একাধিক দল নীলফামারীসহ পাশ্ববর্তী জেলাগুলোর বিভিন্ন গোপন আস্তানায় একযোগে অভিযান চালায়। এই চিরুনি অভিযানের মাধ্যমেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩২টি বাইক উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য তথ্য ও সহযোগীদের হদিস পেতে আটককৃতদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।