নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জনদুর্ভোগ লাঘব হওয়ার পরিবর্তে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান।
তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করেছে। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদে সরকারের মন্ত্রীদের বিভিন্ন বক্তব্যে জনরায়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, জাতির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এতে সংশ্লিষ্টদের নৈতিক অবস্থানের অবনতি ঘটেছে।
শনিবার বিকেলে ফেনী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে মুফতি আবদুল হান্নান বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিংয়ের ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট সমাধানের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, দেশের শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বিরোধী দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে জেলা জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এই সনদ দ্রুত কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় পূর্ববর্তী স্বৈরশাসকের মতো বর্তমানদেরও ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য প্রদান করেন খেলাফত মজলিলের জেলা সভাপতি মাওলানা মোজাফফর, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্যাহ মানিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সেক্রেটারি মো. ইসমাইল এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় জোটভুক্ত নেতৃবৃন্দ। বক্তারা জনগণের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।