বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে আগামী তিন মাসের জন্য নতুন যানবাহন কেনা এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষে রাত ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি কোষাগারের অর্থ ব্যয়ে বিদেশে সব ধরনের প্রশিক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। একই সাথে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ব্যয়ও অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো গাড়ি, জলযান বা আকাশযান কেনা হবে না এবং কম্পিউটারসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ক্রয়েও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে সরকারি সভা-সেমিনারের খরচ ৫০ শতাংশ এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ খাতেও ৩০ শতাংশ খরচ কমানোর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নাসিমুল গনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের এই নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি দেশে পড়ছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তানের মতো বিকল্প দেশগুলো থেকে জ্বালানি আমদানির জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সময়সূচিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে সরকারি ও বেসরকারি সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত। এ ছাড়া সব ধরনের বিপণিবিতান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে ওষুধ ও খাদ্যের মতো জরুরি সেবামূলক দোকানগুলো এই নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচির বিষয়ে আগামী রোববার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকরের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হবে। পরিস্থিতির বিবর্তন অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।