ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে নয়াপল্টনে জড়ো হন অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মী। কারওয়ানবাজারে হত্যাকাণ্ডের একদিন পর তাঁর জানাজায় ছিল শোক ও ক্ষোভের আবহ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুসাব্বিরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে মরদেহ সরাসরি নয়াপল্টনে আনা হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, নয়াপল্টনে জানাজা শেষে মরদেহ প্রথমে তাঁর বাসভবনে নেওয়া হয়। পরে কাওরানবাজারে বাদ আছর দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের লেকচারার ডা. আয়েশা পারভিন মুসাব্বিরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। এ সময় তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হায়দার আলী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতের পেটের ডান পাশে আধা ইঞ্চি আকারের একটি গুলির ক্ষত রয়েছে। এছাড়া ডান হাতের কনুইয়ের পেছনে একটি ছিদ্র এবং বাম পায়ের হাঁটুতে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের বাবা খলিলুর রহমান। তিনি পশ্চিম কারওয়ানবাজারের গার্ডেন ভিউয়ের ১৬/সি নম্বর বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর পরিবারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
মর্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তিনি বলেন,
‘কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেটি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। সিসিটিভি ফুটেজ যেহেতু আছে, কাজেই আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলো দেখে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবে। আর এ রকম ঘটনা তো ঘটতেছেই। আগেও ঘটেছে, এখনও ঘটছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে। সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আমার মতো আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
এদিকে মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তিনি নিজেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে বাসায় ফেরার পথে কারওয়ানবাজারে স্টার কাবাবের পেছনের একটি গলিতে মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গলির পাশে বস্তা নিয়ে বসে ছিল দুই দুর্বৃত্ত। মুসাব্বির সেখানে পৌঁছালে তারা বস্তা থেকে পিস্তল বের করে পেছন থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে উঠে পালানোর চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন পড়ে যায়। হামলাকারীরা ফোনটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় মুসাব্বিরের সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান মাসুদ নামের আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।