সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং লাইসেন্স বাতিল হওয়া অস্ত্রগুলো জব্দ করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আরও কঠোর ও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের সমাপনী দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার, বাজেয়াপ্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা বিতর্কিত লাইসেন্সগুলো পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির যাচাই-বাছাইয়ে যেসব লাইসেন্স নীতিমালা বহির্ভূত প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলো বাদে বাকিগুলো বহাল থাকবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা অস্ত্র জমা দেননি, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান শুরু হবে।
অধিবেশনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও 'গায়েবি' মামলা প্রত্যাহারের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আওয়ামী শাসনামলে বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে বিপুল সংখ্যক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হলেও হত্যা, অস্ত্র বা মাদক মামলার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকায় অনেকগুলো ঝুলে ছিল।
নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তৎকালীন সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বর্তমান সরকারের অনেক নেতার বিরুদ্ধেও মিথ্যা হত্যা ও মাদক মামলা দেওয়া হয়েছিল। এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুতই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত লিখিত নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।