শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের কঠোর আইনের মুখে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা। দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার নতুন আইন কার্যকরের প্রথম কয়েক দিনেই প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) মেটার এক ব্লগ আপডেটে এই বিশাল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অস্ট্রেলীয় সরকারের নতুন নীতিমালার আলোকে মেটা তাদের তিনটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম থেকে এসব অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইনস্টাগ্রাম থেকেই মুছে ফেলা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৯টি অ্যাকাউন্ট। এছাড়া ফেসবুকের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি এবং থ্রেডসের ৩৯ হাজার ৯১৬টি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কার্যকর হওয়া এই আইনটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর অনলাইন রেগুলেশন হিসেবে স্বীকৃত। এই আইনের বিশেষত্ব হলো—ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মতো জায়গায় মা-বাবার অনুমোদনের ভিত্তিতে শিশুদের অ্যাকাউন্ট রাখার সুযোগ থাকলেও, অস্ট্রেলিয়ায় এমন কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। আইনটি অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট টেক কোম্পানিকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
তবে আইন মেনে চললেও এমন ঢালাও নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বয়স যাচাইয়ের দায়িত্বটি একক কোনো প্ল্যাটফর্মের ওপর না রেখে সরাসরি ‘অ্যাপ স্টোর’ (যেমন অ্যাপল বা গুগল প্লে স্টোর) পর্যায়ে করা উচিত। মেটার মতে, “এর ফলে শিশুরা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ হয়ে অন্য কোনো কম নিরাপদ অ্যাপে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।”
এদিকে আইনটি অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ও জনপ্রিয়তা পেলেও অনেক বিশেষজ্ঞ এবং খোদ কিশোর-কিশোরীরা এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান। বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ+ এবং নিউরোডাইভারজেন্ট সম্প্রদায়ের কিশোর-কিশোরীদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তাদের অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ ও সমর্থনের পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কড়াকড়ি বাড়লে ভিপিএন ব্যবহার করে কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে এসব নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।