অতীতের বিভাজনমূলক রাজনীতি পরিহার করে ঐক্য ও ন্যায়ের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ইতিহাস ঘেঁটে কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি আর চলবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নাটোরের নবাব সিরাজ–উদ্–দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কে তুলসীপাতায় ধোয়া, কে দুধে ধোয়া—টান দিলে সবার গা থেকেই দুর্গন্ধ বের হবে। এখন আমরা সবাই একই বাগানের ভিন্ন ভিন্ন ফুল।’
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই মিলেই আমরা একটি ফুলের বাগান। একসঙ্গে চলব, নিরাপদে থাকব। যার যেটা অধিকার, সে সেটা পাবে। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’
অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার দেশের প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আল্লাহ যদি আমাদের সাহায্য করেন, তাহলে সেই টাকা উদ্ধার করে রাজকোষে জমা দেওয়া হবে।’
রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়তা বা প্রভাব বিবেচনায় আসবে না। তাঁর ভাষায়, ‘কোনো মামু-খালা দেখা হবে না। লাল–নীল টেলিফোন বুঝি না। প্রেসিডেন্ট–প্রধানমন্ত্রীও বুঝি না। যার যেটা পাওনা, তাকে সেটা ইনসাফের ভিত্তিতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব। বাংলাদেশ ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকতে পারব না। ৫৪ বছরে এক এক করে তিনটি দল দেশ শাসন করেছে। তারা কী শাসন উপহার দিয়েছে, তা বিচার করলেই তাদের আর ভোট দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।’
তরুণ সমাজ ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণরা বলে দিয়েছে—তারা ন্যায় ও সত্যের পক্ষে লড়াই করেছে, কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের সঙ্গী হতে নয়।’
নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা মদিনার আদলে শান্তি ও সাম্যের সমাজ উপহার দিতে চাই। যেখানে নারীদের দিকে কেউ বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস করবে না। আমার মা, বোন, স্ত্রী ও মেয়েরা নিরাপদে ঘরে ও বাইরে চলাফেরা করবেন, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন। আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করার প্রয়োজন হবে না।’
জনসভা শেষে নাটোরের চারটি সংসদীয় আসনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।