সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রশাসন পক্ষপাতীত্ব করলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, প্রশাসন একপক্ষীয়ভাবে কাজ করলে দেশে কখনও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। দলটি বলছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এখনও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হয়নি। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না থাকে, সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

প্রশাসন পক্ষপাতীত্ব করলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, প্রশাসন একপক্ষীয়ভাবে কাজ করলে দেশে কখনও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। দলটি বলছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এখনও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হয়নি। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না থাকে, সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মা’ছুম, এবং সভা পরিচালনা করেন সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম। কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শুরু হয় মাওলানা আ ফ ম আবদুস সাত্তারের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। শুরুতেই মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করতে সংগঠনকে প্রস্তুত রাখাই একমাত্র বিকল্প। সেই লক্ষ্যেই বৈঠকে বিভিন্ন সাব-কমিটি গঠন, দায়িত্ব বণ্টন এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, বিচারহীনতা এবং প্রশাসনের পক্ষপাতের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক আচরণে একপক্ষীয় প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নির্বাচনের পরিবেশের জন্য সতর্কবার্তা। সব রাজনৈতিক দলের জন্য এখনও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি, ফলে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের শর্ত পূর্ণ হচ্ছে না।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া এবং সন্ত্রাস দমন কার্যক্রমে অগ্রগতি না থাকার প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। নেতারা বলেন, হত্যার ঘটনা ঘটলেও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তেমন কোনো সাফল্য নেই। এর ফলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ফাঁক থেকে যাচ্ছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ নিরপেক্ষতা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন। তবে এখনও এসব পদক্ষেপ জনগণের সামনে দৃশ্যমান হয়নি।

নেতারা আরও মন্তব্য করেন, প্রশাসনের পক্ষপাত চলতে থাকলে ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের আস্থা গড়ে উঠবে না। জনআস্থা ছাড়া নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতা, গ্রহণযোগ্যতা নয়।

বৈঠক শেষে কমিটি পুনর্ব্যক্ত করেছে কয়েকটি দাবি—প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগের পরিবেশ নিশ্চিত করা। নেতারা সতর্ক করে বলেন, সময় এখনও আছে, কিন্তু দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা না করলে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে।