মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সদস্যদের সকল যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সদস্যদের সকল যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভা’য় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশ সদস্যদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৪০ বছর চাকরির পরও অনেক কনস্টেবল পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যান। এই সমস্যা সমাধানে বিশেষ নীতিমালা এবং সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ডের ভিত্তিতে অবসরকালীন সময়ে কনস্টেবল থেকে অনারারি এএসআই, এএসআই থেকে অনারারি এসআই এবং এসআই থেকে অনারারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

পুলিশিং কার্যক্রমের গতিশীলতা বাড়াতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য বিশেষ ভাতার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পর্যায় পর্যন্ত সদস্যদের জন্য ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ভাতার নীতিমালা প্রণয়নের কথা ভাবছে সরকার। এটি তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনে নতুন উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

আবাসন ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিগত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

পরিবর্তিত সময়ের অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরণ পাল্টে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। এ সময় তিনি জানান, অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ ও মানি লন্ডারিং রোধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘মব কালচার’ বন্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে আরও কঠোর ও আধুনিক করা হবে।

জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পুলিশকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি আলী হোসেন ফকির এবং অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।