স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আশা–আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, এসব রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করেছে এবং মানুষের অধিকার হরণ করেছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহসীনের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, বিশেষ করে তিনটি বড় দল বারবার ক্ষমতায় ছিল। তারা কেউই দুর্নীতি, অর্থ পাচার, দলীয়করণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের দায় থেকে মুক্ত নয়। এই ব্যর্থ রাজনৈতিক শক্তিগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও জনগণের অধিকার হরণ করেছে।’
তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন মৌলিক রাজনৈতিক পরিবর্তন চায় এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক পুরোনো রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। ১১–দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এই জোটে ছয়টি ইসলামী দল এবং জুলাই যোদ্ধাদের দল এনসিপি রয়েছে—যারা আগে কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়নি এবং যাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ নেই।
শেরপুরে এক জামায়াত নেতাকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির সন্ত্রাসীরা নির্মম হামলা চালিয়ে ওই নেতাকে হত্যা করেছে। তাঁর ভাষায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর এটি প্রথম হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং জামায়াতে ইসলামীসহ কোনো দলের প্রার্থীদের ওপর যেন আর হামলা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দেশ সহিংসতার দিকে যাবে এবং নির্বাচন নিরপেক্ষ থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাস ও সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপির কোনো কোনো নেতা বক্তব্য দিচ্ছেন, দাঁড়িপাল্লার কাজ করার জন্য মহিলারা যদি কোনো বাড়িতে যায়, তাদের কাপড়চোপড় খুলে নেবে। তাদের ওপর হামলা করছে, গায়ে হাত তুলছে। যারা নির্বাচনের আগে নারীদের গায়ে হাত তোলে, তাদের কাপড় খুলে নিতে চায়, ক্ষমতায় গেলে তারা কী আচরণ করবে!’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি আমাদের নেতাদের হত্যা করে, চাঁদাবাজি করে, তাহলে ক্ষমতায় গেলে তাদের কাছে আমাদের হিন্দু–মুসলিম কারও জানমাল নিরাপদ থাকবে না। নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে।’ এ সময় তিনি জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে পুরোনো রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান।
সমাবেশে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল বাশারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসাইন, সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. মহসীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ (নবীনগর) আসনে ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী আমজাদ হোসেন আশরাফী, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, এজিএস মাসুদ রানা এবং উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক শামীম নূর।